কবিতা

শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াই

– নুরুল আমিন।।

আমাদের আকাশে কুয়াশা কন্যাদের মিছিল চলে।
শহরের বুকে জলপাই রঙের ট্যাংক এসেছে।
এখানে ওখানে পথশিশু আর ভাসমান মানুষ
তাদের নেই চেতনা, নেই হুঁশ।
প্রচন্ড শীতে কোঁ কোঁ করে কাঁপছে
আর এদিক ওদিক তাকাচ্ছে।
একখানা কম্বল পাওয়ার স্বপ্ন
তাদের মনে জাগে।
ট্যাংক থেকে ভেসে আসে গোলাবারুদের শব্দ
পুরো শহর নিমিষেই হয়ে যায় স্তব্ধ।
তবু ওদের থামে না শীতের কাঁপন
খোলা আকাশের নীচে এই মাটি, এই পথ
তাদের অতি আপন।
যুদ্ধের হামাগুড়ির মধ্যেও অসহায় মানুষগুলো
আপন ঠিকানা ছেড়ে নাহি যায়।
আগুনের কুন্ডলী জ্বেলে
শীতের সঙ্গে যুদ্ধ করছে হেথায়।
চলো আমরা সবাই মিলে যাই
শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াই।

কত কথা কও

– নুরুল আমিন।।

নদী! তোমার কুলে বসতি যার
তুমি কেমনে ভাঙ্গ তার ঘর!!
নদী! তুমি কেন এত নিষ্ঠুর?
তুমি কেন এত স্বার্থপর?
নদী! তোমার বুকে ভাসাই
ভালবাসার নাও।
সারা বেলা নেচে নেচে
তুমি কত কথা কও!!

কোন গাড়িতে আইলাম

♦ নুরুল আমিন ♦

কোন গাড়িতে আইলামরে মন
কোন গাড়িতে যাবো ।
আপন বাড়ি যাইবার কথা
মনে মনে ভাবো ।।
শূণ্য হাতে আইছি ভবে
শূণ্য হাতে যাবো ।
গাড়ি বাড়ি বালাখানা
সঙ্গে নাহি যাইবো ।।

মনযমুনায় উঠিলে তুফান

♦ নুরুল আমিন ♦

মনযমুনায় উঠিলে তুফান
দুমড়ে মুচড়ে বুকের পাঁজর
ভাইঙ্গা হয় খান খান ।
সারা দেহে আসে কম্পন
ব্যথার রাগিণী কাইন্দা বলে
এ হল এক দুরন্ত লগন ।।

ভবের এই পরবাসে

♦ নুরুল আমিন ♦

ভবের এই পরবাসে
মাতিয়া রঙ্গরসে
হাসিয়া খেলিয়া
কাটাইলাম বেলা ।
কি নিয়া যাইব
আপন দেশে
সে কথা ভাবিবার
সময় যে হলনা ।।
বেলা যখন ডুবুডুবু
একলা করি হাবুডুবু ।
রঙ্গিলা দিনগুলো ভাবি
করি শুধু অনুতাপ ।।

কথার কথা

– নুরুল আমিন।।

কথার কথা কথার ফাঁকে
মুরুব্বিরা কয় –
কিলাইলে কি কাঁঠাল পাকে?
পরের গাছের কাঁঠাল দেখে
কেউ কেউ গোঁপে তেল মাখে ।
কেউ কেউ আবার
পরের মাথায় কাঁঠাল ভাঙ্গে।
কেউ আবার মাতে
কাঁঠালি রঙ্গে।
কেউ কাঁঠাল চুরি করে
লোক সমাজে সাধু সাজে।
আজব আজব ঢঙ্গে
মিশে গিরস্তের সঙ্গে ।।

কোন কুলে বান্ধিলা ঘর

– নুরুল আমিন।।

আমারে করিয়া পর
কোন কুলে বান্ধিলা ঘর ।
ভুলিতে পারিনা সই গো
মিষ্টি মুখ তোমার ।।
তোমারও লাগিয়া
কান্দে যে অন্তর ।
আমি যে তোমার
প্রেমেরও কান্ডার ।।

অনুতাপ

– নুরুল আমিন।।

এই সবুজ মাঠ
এই রুপালি নদী ।
সবই পড়ে থাকবে
হয়ে যাবে স্মৃতি ।।
আমার এই কবিতা
কবিমনের ব্যকুলতা
আর এই গান ।
তোমার আঙ্গিনা জুড়ে
করবে নাচন ।।
যন্ত্রণায় কাতর চোখে
দেখে দেখে বলবে –
আহা ! কি করিলাম !!

জীবন নদীর কিনারে

♦ নুরুল আমিন ♦

জীবন নদীর কিনারে
নাইবা যদি পাই তোমারে ।
তবুও হৃদয়ের ভালবাসা
ছড়াব দিগন্ত জুড়ে ।।
নীল আকাশ রুপালি নদী
জীবনের গান গাইবে নিরবধি ।
অস্থির অস্থির মনে ভাববে তুমি
এ গানের কলি হতে পাত্তেম যদি ।।

মন মানেনা সোনা বন্ধু

♦ নুরুল আমিন ♦

মন মানেনা সোনা বন্ধু
কি করিবরে আর।
তোর পিরিতে মন মজাইয়া
সইলাম কত অপমান।।
ভুলিতে পারিনা তোরে
কাঁন্দে বুকের পাঁজর।
এদিক ওদিক তাকাই শুধু
কাতর দুই নয়ন।।

অভিনয়

– নুরুল আমিন।।

কারবা আশা করিসরে মন
কেউত তোর নয়।
স্বার্থের টানে কাছে এসে
করে শুধু অভিনয়।।

তোমাকে জানাই

– নুরুল আমিন।।

তোমাকে জানাই বন্ধু
জন্ম দিনে স্বাগতম।
বেঁচে থাক হাজার বছর
হৃদয়ে রাখ হৃদয়ের বন্ধন।।
নতুন গানে নতুন দিনে
ভরে উঠুক জীবন।
সুন্দর হোক জীবনের
প্রতিটি ক্ষণ।।

ভোলামন তুই যাসনে ভুলে

♦ নুরুল আমিন ♦

ভোলামন তুই যাসনে ভুলে
পরপারের কথা।
ভবের রঙরসে মেতে
কাটাসনে সময় অযথা।।
শূণ্য হাতে আইছ ভবে
শূণ্য যাইবা চলে।
কেউ যাবে না সাথে
পরপারে যাইবার কালে।।
যা কিছু করবা আমল
অনন্ত জীবনের পথে
তাই হবে সম্বল।।

ঘুটা

– নুরুল আমিন।।

ঘুটার ঘুটামি
নিছক এক পাগলামি।
ছুঁ ছুঁ করে সারাক্ষণ
থেকে থেকে কামড় মারে
কুকুরের মতন।।

বড় ভালবাসি

– নুরুল আমিন।।

তুমি ডাকলেও আসি
না ডাকলেও আসি।
আমি যে তোমায়
বড় ভালবাসি।।
হৃদয় মাঝে দিবানিশি
বাজে তব মধুর বাঁশি।

গাঁও গেরামের মুরুব্বিরা কয়

♦ নুরুল আমিন ♦

গাঁও গেরামের মুরুব্বিরা
কথায় কথায় কয় –
কুখাইচ্ছত মৃগী বাই
তিন চিজের ওষুধ নাই।।
খাছিয়ত যদি মন্দ হয়
কবিরাজ পরে দায়।
কুখাইচ্ছতের দুষ্ট বাতাস
বন্ধুজনকে কষ্ট দেয়।।
কুখাইচ্ছতের মানুষ যারা
বন্ধুবেশে শত্রু তারা।
উপর দিয়ে ভাল থাকে
ভেতর দিয়ে ক্ষতি করে।।

বন্ধু বলে যাদের কাছে গেলাম

♦ নুরুল আমিন ♦

বন্ধু বলে যাদের কাছে গেলাম
অতি আপন করে নিলাম
হৃদয়ে দিলাম স্থান।
আসলে তারা বন্ধু নহে
বন্ধু নামের কলংক বটে
কাজে কর্মে তাই পেলাম।।
ফাঁকিবাজি আর ঠগবাজি
এটাই তাদের কাজ।
দুচোখের আশেপাশে
একটুও নেই লাজ।।
তবুও যতদূর পারি
দিয়ে যাব বন্ধুত্বের দাম।
সালাম বন্ধু, হাজার সালাম
শত কষ্টের মাঝেও জানাই
হাজার সালাম।।

কি সোন্দর ময়ুর পঙ্খি নাও

♦ নুরুল আমিন ♦

কি সোন্দর ময়ুর পঙ্খি নাও
বানাইছে কারিগর।
নুরের রওশনি ঢেউ খেলে যায়
নাওয়েরও ভেতর।।
নাওয়ের উপর তলায় থাকে বুদ্ধি
মাঝের তলায় থাকে হীরামন পাখি।
নিচের তলায় নাও চালাইবার
আছে দুইখান খুঁটি।।
মাঝে আরো তলা আছে
বন্ধে বন্ধে ছানি।
আহা কি চমৎকার দেখতে
ময়ুর পঙ্খি নাওখানি।।

বহুদিন পরে

– নুরুল আমিন।।

বহুদিন পরে বন্ধু
এলাম তোমাদের তরে।
মুঠি মুঠি ভালবাসা
নিব হৃদয় জুড়ে।।
হৃদয়ের লেনালেনা
করিব হৃদয়ে।
বাকিটা সময় রহিব
হৃদয়ের বন্ধনে।।

দম পবনের বৈঠা

– নুরুল আমিন।।

দম পবনের বৈঠায় চলে
ঝিলমিল ঝিলমিল তরি।
ভবের ঘাটে নোঙ্গর করি
কত রঙ্গে নাচে তরি
রঙ্গিলা পাল তুলি।।

ভাবছি বসে পরবাসে

– নুরুল আমিন।।

ভাবছি বসে পরবাসে
কখন যাব আপন দেশে।
কেহ আগে কেহ পরে
সবাই যাবে আপন ঘরে।।
পরবাসি মনটা আমার
উতাল পাতাল করে।
মায়াপুরির মায়ার বাঁধন
শুধুই ক্ষনতরে।।

স্বার্থের টানে

– নুরুল আমিন।।

ম্বার্থের টানে বন্ধু মিলে
বন্ধুত্ব ভাঙ্গে স্বার্থ ফুরালে।
এমন বান্ধব আছে যার
পোড়া কপাল তার।।

মরমে মোর বাজে যাহার বাঁশি

♦ নুরুল আমিন ♦

মরমে মোর বাজে যাহার বাঁশি
আমি তাহারেই খুঁজি দিবানিশি।।
আমারই মাঝে থাকে সে
পথের শুরু থেকে শেষে।।
সে আমার আপন পড়শী
আমি তাহারেই ভালবাসি।।

কিছু দুষ্ট আছে

– নুরুল আমিন।।

আমাদের আশপাশে
কিছু দুষ্ট আছে।
কাহারো ভালো দেখলে
তাহাদের গাও জ্বলে।।

কুড়ি কুড়ি বছরের পার

– নুরুল আমিন।।

জীবন গিয়েছে চলে
কুড়ি কুড়ি বছরের পার!
এসো হে বন্ধু
বন্ধুত্বের উদ্যানে
জীবনের ক্যাম্পাসে
তোমায় দেখি একবার।।
এরই মাঝে কত বসন্ত
করেছ পার!!

পঁচিশ বসন্ত পরে

– নুরুল আমিন।।

বন্ধু! তোমার দুরন্ত ভালবাসা
ঢেউ তুলে যায়
আমার হৃদয়ের আঙ্গিনায়।
ভুলিতে পারিনা তোমায়।।
পঁচিশ বসন্ত পর
হৃৎকাননে আজো বাজে
তোমার সুর।।
পঁচিশ বসন্ত পরে
তোমারেই মনে পড়ে।।

নদী মরে যায়

– নুরুল আমিন।।

নদী মরে যায়
গাঙচিল পথ হারায়।
বন্ধুত্ব অমর হয়ে রয়।।
বন্ধুর তরে বন্ধু
আজীবন পাশে রয়।
বন্ধুত্ব কভু
ছিন্ন হবার নয়।।

জেগে আছে মোর হৃদয়

– নুরুল আমিন।।

কত কাল কত যুগ পরে
তোমারেই মনে পরে।
সেদিনের ভোরের আলোয়
যেমন দেখেছিলাম তোমায়।।
আজি দুপুর গড়ানো রোদ্দুরে
তুমি আছো কি হালে কোথায়?
তোমরই স্মৃতি বুকে লয়ে
জেগে আছে মোর হৃদয়।।
How many periods of time later
Remember you later.
That day in the light of the day
As I saw you.
Today is the afternoon sunrise sunshine
How are you
Where are you.
Your memory is in the chest
My heart is awake.

কাহারে কহিব

– নুরুল আমিন।।

কাহারে কহিব কথা
খুলিয়া পরান!
কাহারে শুনাইব বেদন!!
কেহ হৈলনা আপন
বন্ধু হৈলনা মনের মতন।।
Who will say the words
Knit open.
Who will listen to pain !!
Nobody has
A friend is not like a mind.

ভাঙ্গা ভাঙ্গা হাতে

– নুরুল আমিন।।

ভাঙ্গা ভাঙ্গা হাতে
চিঠি লেখার দিন
অহন আর আর নাই।
ভালবাসা আছে
সে তো আগের মতই।।
কবুতর চিঠি লইয়া যাইত
ভিখারিনী চিঠি লইয়া আইত
নানান কথা কইত
সুযোগ বুঝে চিঠি দিত।।

আমার আমি কে?

– নুরুল আমিন।।

যখন বসে ভাবি নিরালায়
আমার আমি কে?
জবাবে সব স্তব্ধ হয়ে রয়।
সবুজ বনানী বিস্তীর্ণ মাঠ
নদী নালা পথ ঘাট
সবই ঠিক রবে।
সময়ের আবর্তে হয়তো বা
পরিবর্তনের হাওয়া বইবে।।
আর আমি?
কোন এক বাগিচার কোনে
ঘুমিয়ে রবো – অনন্ত কাল ধরে।
আমার স্মৃতি নাচবে গাইবে
নি:শব্দে – তোমাদের তরে।।
When I think of serenal
Who am I ?
In respons all stops .
Green Banani broad field
River chanal road ghat
Everything will be okay.
And me ?
My memory will sing and dance
Silently on your side.

আজ দুপুরে

– নুরুল আমিন।।

আজ দুপুরে হেলে পড়া রোদে
খন্ড মেঘের নির্জন নিরালা ছাদে।
দেখেছি তোমার ভালবাসার আল্পনা
তাই তোমায় নিয়ে আমার কল্পনা।।
চোখের তারায় আছো তুমি
জয় করে হৃদয় ভূমি।
তুমি আমায় ভুইলো না
আমিও তোমায় ভুলবো না।।
Today afternoon sun lounges
On the lonely shallow roof of the cloud.
I saw your love alpana
So my imagination with you.
You are in eye tears
Win the hearts of the land.
You do not mistake me
I will not forget you.

তবু তারে ভুলিনি

– নুরুল আমিন।।

কত করে কহিলাম তারে
ছাড়িয়া যাইও না মোরে।
সে নাহি রাখিল কথা
মনে বাড়িল ব্যথা।।
তবু তারে ভুলিনি
তার আশা ছাড়িনি।
How many say that the cable
Do not go away from me.
she did not keep talking
The pain seems to be over.
Still do not forget her
Did not leave her hope.

আমার বুকের জমিনে

– নুরুল আমিন।।

আমার বুকের জমিনে বেঁধেছি
তোমার লাগি পিরিতের ঘর।
এই জমিনে মাথা রেখে
থাকবা তুমি সারা জীবনভর।।
বন্ধুয়ারে…….।।
বুকের দুই কুল ভাঙ্গে
দুরন্ত তুফানে।
তুমি বন্ধু ছাইড়া গেলে
আমি বাঁচব কেমনে।।
বন্ধুয়ারে………।।
কবি নুরুল আমিন কাইন্দা বলে
পিরিতের মর্ম না বুঝিলে
সারা জনম যাবে
দুই নয়নের জলে।।
বন্ধুয়ারে…….।।

ভুলিতে তোমায় মনে নাহি চায়

– নুরুল আমিন।।

ভুলিতে তোমায় মনে নাহি চায়
কি ভালবাসা দিয়েছ আমায়
বন্ধুরে
কি পিরিতি শিখালে আমায়।।
তুমি গিয়েছ চলে
আমায় ভুলে অন্য আতালে
তোমার স্মৃতির প্রদীপ
আজো কেন ঘুরেফিরে
আমার অন্তরে জ্বলে।
বন্ধুরে
কি পিরিতি শিখালে আমায়।।

তোমার কথা মনে হৈলে

– নুরুল আমিন।।

তোমার কথা মনে হৈলে
বুক ভাসে নয়ন জলেরে।
কেমনে ভুলিব তোমায়
তুমি আমার পরানরে।।
কত নিশি জেগে আমি
তোমার আশায় আশায় থাকিরে।
তোমার স্মৃতি বুকে লয়ে
দুঃখ কষ্ট যন্ত্রনা ভুলিরে।।
When you remember
In the tears of the breast.
How do you forget
you are my heart.
How many nights I wake up
I look forward to your hope.
your memory is in the chest
Do not miss the trouble of misery.

দুরন্ত মন

– নুরুল আমিন।।

ফুল পাখি আর নৈসর্গিক সৌন্দর্য
দেখে দেখে কেটে যায় বেলা।
সকাল সাঁজে বেলা কি অবেলা
যতনে গাঁথি মনজুড়ানো পুষ্পমালা।
প্রেমের তরঙ্গে ভাসাই দুরন্ত মন
অধির আগ্রহে তব প্রতিক্ষায় থাকি।
জীবনের সবচেয়ে মুল্যবান সময়
কখন চলে যায় – কহিতে না পারি।।

সোনার বাংলা গড়তে হলে

– নুরুল আমিন।।

সোনার বাংলা গড়তে হলে
থামিও না কায়িক শ্রমে।
দেশকে ভালবেসে
সকলে মিলেমিশে
কাজ করি হেসে হেসে।।
কাজে নাই যার মন
তারে দিয়ে হয় না উন্নয়ন।।

তুমি আমার বন্ধু হইলে

♣ নুরুল আমিন ♣

তুমি আমার বন্ধু হইলে
কত ভাল লাগবে।
পাশাপাশি থাকবো দুইজন
সময়টা বেশ কাটবে।
সুখ দুখের ভাগি হবো
ভালমন্দ খবর নিবো।
হৃদয়ের আকাশ জুড়ে
রঙ্গিন ঘুরি উড়াবো।

বন্ধু যদি থাকে পাশে

♥ নুরুল আমিন ♥

বন্ধু যদি থাকে পাশে
ভয় করিনা কারো কথায় গো।
বন্ধুর লাগি –
আমি বন্ধুর লাগি জীবন দিতে পারি গো।।
পাড়ার লোকের মন্দ কথায়
আমার অনেক ক্ষতি হয় গো।
তবু আমি –
বন্ধুর আশা ছাড়িনা গো।

এইবার নতুন বছরে

♥ নুরুল আমিন ♥

এইবার নতুন বছরে
আইসো আমার বাড়িতে ।
বাউল মনের ভালবাসা
দিমু তোমারে ।।
একতারাটা হাতে লইয়া
গান গাহিবো নাইচা নাইচা ।
বাংলা ঢোলের তালে বন্ধু
উঠবে তুমি নাচিয়া ।।
পান্তা ইলিশ পোড়া মরিচ
খাওয়াইবো পেট ভরে ।।
তুমি আইসো বন্ধু
প্রাণের উৎসব নববর্ষে।।

ভুলিতে পারিনা বন্ধে

♠ নুরুল আমিন ♠

ভুলিতে পারিনা বন্ধে
তোমারো স্মৃতি ।
বারে বারে আমার মনে
জাগে তোমার প্রীতি ।।
মধু ক্ষণে তোমার সনে
কইতাম কত কথা ।
জুড়াইত মনঃপ্রাণ
থাকতোনা আর ব্যথা ।।
সারা জীবন কষ্ট দিলা
সুখের দিনে চইলা গেলা ।
যাবার বেলা আমার কথা
একটু ভাবলানা ।।

বন্ধেরে লইয়া যামু

♣ নুরুল আমিন ♣

বন্ধেরে লইয়া যামু
চাঁনদেরো দেশে ।।
পিরিতের ঘর বানামু
মনেরো আকাশে ।।
চুপিচুপি কথা কমু
মেঘের ভেলায় বসে ।
বন্ধের প্রাণ জুড়াইয়া দিমু
দখিনা বাতাসে ।।
জলাঙ্গির ঢেউ দেইখো বন্ধে
মুগ্ধ দুই নয়নে ।
আমার লাইগা রাইখো জায়গা
মনের বিজন কোণে ।।

বন্ধু যদি থাকে পাশে

♥ নুরুল আমিন ♥

বন্ধু যদি থাকে পাশে
ভয় করিনা কারো কথায় গো।
বন্ধুর লাগি –
আমি বন্ধুর লাগি জীবন দিতে পারি গো।।
পাড়ার লোকের মন্দ কথায়
আমার অনেক ক্ষতি হয় গো।
তবু আমি –
বন্ধুর আশা ছাড়িনা গো।

এইবার নতুন বছরে

♥ নুরুল আমিন ♥

এইবার নতুন বছরে
আইসো আমার বাড়িতে ।
বাউল মনের ভালবাসা
দিমু তোমারে ।।
একতারাটা হাতে লইয়া
গান গাহিবো নাইচা নাইচা ।
বাংলা ঢোলের তালে বন্ধু
উঠবে তুমি নাচিয়া ।।
পান্তা ইলিশ পোড়া মরিচ
খাওয়াইবো পেট ভরে ।।
তুমি আইসো বন্ধু
প্রাণের উৎসব নববর্ষে।।

ভুলিতে পারিনা বন্ধে

♠ নুরুল আমিন ♠

ভুলিতে পারিনা বন্ধে
তোমারো স্মৃতি ।
বারে বারে আমার মনে
জাগে তোমার প্রীতি ।।
মধু ক্ষণে তোমার সনে
কইতাম কত কথা ।
জুড়াইত মনঃপ্রাণ
থাকতোনা আর ব্যথা ।।
সারা জীবন কষ্ট দিলা
সুখের দিনে চইলা গেলা ।
যাবার বেলা আমার কথা
একটু ভাবলানা ।।

বন্ধেরে লইয়া যামু

♣ নুরুল আমিন ♣

বন্ধেরে লইয়া যামু
চাঁনদেরো দেশে ।।
পিরিতের ঘর বানামু
মনেরো আকাশে ।।
চুপিচুপি কথা কমু
মেঘের ভেলায় বসে ।
বন্ধের প্রাণ জুড়াইয়া দিমু
দখিনা বাতাসে ।।
জলাঙ্গির ঢেউ দেইখো বন্ধে
মুগ্ধ দুই নয়নে ।
আমার লাইগা রাইখো জায়গা
মনের বিজন কোণে ।।

ভালবাসা কাইন্দা মরে

– নুরুল আমিন।।

ভালবাসা কাইন্দা মরে
বুকের পিঞ্জিরায়।
কার লাগিয়া কান্দেরে মন
কেউ সাড়া নাহি দেয়।।
শ্যামের বাঁশি বারে বারে
আমায় ডাকে মধুর সুরে।
সুরে সুরে সুরমালা
বাড়ায় বিষম জ্বালা।।
তবুও তারে ভালবাসি
সে যে আমার হৃদয়বাসি।।

যার লাগিয়া দেওয়ানা মন

– নুরুল আমিন।

যার লাগিয়া দেওয়ানা মন
তারে খুঁজি নিশিদিন।
ওই নামেতে হৃৎমাঝারে
বাজে মধুর বীণ।।
আপন সুরে আপন মহিমায়
আকুল যে করিল আমায়।
সে থাকে আমার হিয়ায়
আমি থাকি তার আশায়।।
মিনতি করি গো সদায়
সে যেন আমার হয়।
কোন ভুবনে তার তুলনা
কভু কেহ নয়।।

কচি মুখে মধুর হাসি

– নুরুল আমিন।।

কচি মুখে মধুর হাসি
আকুল করে প্রাণ।
এ যে ছোট্র পরীমনি
আমার বুকের ধন।।
কচি মুখে কচি মায়া
বুঝে না ছলচাতুরি
আপন মনে সারা বেলা
বেড়ায় সাড়া বাড়ি।।
ছোট ছোট অভিমান
কাড়িয়া লয় প্রাণ।
চোখের একটু আড়াল হলেই
বিচলিত হয মন।।

প্রেম তরঙ্গ

– নুরুল আমিন।।

প্রেম তরঙ্গে মন মেতেছে
থাকিস লো সই সঙ্গে ।
কইবো কথা মধু ছন্দে
কত রঙ্গে ঢঙ্গে ।।
প্রেমের বাঁশি কে যে বাজায়
বসে হিয়া মাঝে ।
বাজে বাঁশি আপন সুরে
ভাসি ভাব তরঙ্গে ।।

সংসার একটা ভাঙ্গা খলই

– নুরুল আমিন।।

সংসার একটা ভাঙ্গা খলই
যত আনবা যত দিবা
চাইয়া দেখবা
ফুটা তলা ভরে নাই ।।
তবু কেন অবলা মানুষ
সংসার মায়া ডোরে বেহুঁশ ।
হায়রে ভব সংসার
তোর তরে সব হৈল উজার ।।
কঠিন মায়ার সংসার
এত মায়ার পরেও
হৈলনা আমার ।।

আমারে আর কান্দাইও না

– নুরুল আমিন।।

আমারে আর কান্দাইও না
এবার ফিরে চাও ।
পিরিতের তরিখানি
আমার ঘাটে ভিড়াও ।।
তোর পিরিতে পইরা আমি
কানলাম জনমভর ।
চোখের জলে আর
বাঁধ মানেনা বয়ে যায় সাগর ।।

সুখের দিনে

– নুরুল আমিন।।

সুখের দিনে বন্ধু মিলে
দুখে কেউ থাকেনা ।
আপন আপন বলে সবাই
আপন কেউ হয় না ।।
স্বার্থের টানে কাছে আসে
ভাবে বুঝায় ভালবাসে ।
স্বার্থের সুতায় পড়িলে টান
থাকে না আর আপন ।।

ব্যথা

– নুরুল আমিন।।

কাছে থাকা মানুষটি
ষড়যন্ত্রের মুল ।
এ কথা যদি জানা যায়
কষ্টে জিদ্দে যন্ত্রণায়
অন্তর ফানা ফানা হয় ।।
জীবনটা হয় তেজপাতা
ভুলিতে পারে না কভু
বন্ধুর দেওয়া ব্যথা ।।

দুরন্ত ভালবাসা

– নুরুল আমিন।।

কি যে এক দুরন্ত ভালবাসার
মধু মধু হিল্লোল
হৃদয় ছুঁয়ে যায় !
বুঝা যায় ; কিন্তু বুঝানো দায় ।।
কার পানে ছুটে হৃদয়
কার তরে এমন আকুল হয় !
হৃদয় মাঝে বসি আপন মহিমায়
সুরের বেহালা কেগো বাজায় !!
সাধ্য কি আছে আমার
চিনিব তোমায ; দেখিব তোমায় ।
শুধু এই মিনতি করি দয়াল
তোমার থেকে যেন বঞ্চিত না হই ।।

আমি কার লাগিয়া

– নুরুল আমিন।।

আমি কার লাগিয়া রইলাম বইসা
ভব দরিয়ার পাড়ে ।
আমার পরের নাইয়া আগে যায় বাইয়া
পারের কড়ি কে দিল তারে ।।
আমি অধম কোন ভুলে
তোমারে গেছি ভুলে ।
ভুলের পাহাড় ভেঙ্গে দয়াল
আমারে লও তুলে ।।
আমার চোখে মেখে দেও দয়াল
মদিনার ধুলাবালি ।
কন্ঠে তুলে দেও মোর
প্রিয় নবীজির বুলি ।।

কোন এক বিকেলে

– নুরুল আমিন।।

কোন এক বিকেলে দেখেছি তোমায়
সে দেখা আজো হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
তোমার মায়াবী মুখ পিরিতের বাসনায়
বার বার গহীন মমতায় ডাকে শুধু আমায়।
খড়বিচালী শুকনো পাতা যেন
কতকাল কতযুগ যুগান্তর ধরি
মর্মর সুরে তোমার আগমনী পথে
এখানে ওখানে পড়ে আছে।
আহা! কেউ নেয় নাকো তুলে !!
আমি অভাগা পারি নাকো !
তোমায় যেতে ভুলে !!!
হতভাগি! একবার এসে
আমায় নেও নাগো তুলে !!

আমি যার পিরিতের কাঙ্গাল

♦ নুরুল আমিন ♦

আমি যার পিরিতের কাঙ্গাল
সেতো আমার হৈলনা।
পিরিতি কইরা আমি
পাইলাম শুধু যন্ত্রণা।।
রঙ্গেঢঙ্গে কাছে আইসা
কইরা গেলো ছলনা।
আমার মন কাইরা নিলো
তাহার মন দিলোনা।।
সে আমারে ভুলে গেছে
আমি তারে ভুলিনা।
পিরিতের এ কেমন রীতি
পাগল মনে বুঝেনা।।

পিরিতে দেওয়ানা মন

♠ নুরুল আমিন ♠

পিরিতে দেওয়ানা মন
ব্যাকুল থাকে সারাক্ষন ।
কখন পাবে বন্ধুর দেখা
করিবে মধুর আলাপন ।।
চিন্তায় চিন্তায় জীবন ক্ষয়
মুল্যবান সময় চলে যায়।।
কপালে হাত মারিয়া শেষে
করে শুধু হায় হায় ।।
সময় থাকতে বুঝে লও
পিরিতের আবেগ কমাও ।
নিজ কর্মে দিলে মন
সুন্দর হবে জীবন ।।

পিরিতের বাঁশি

♥ নুরুল আমিন ♥

পিরিতের বাঁশি বাজাইয়া
মন কারিলা কালাচান ।
তোমার লাইগা দিবানিশি
কান্দে আমার মন ।।
ও কালাচান ।।
কত মিঠা মিঠা কথা কইয়া
করিলা আপন ।
বুকের জমিনে বইসা
দেখাইলা কত স্বপন ।।
ও কালাচান ।।
ঘরে বাইরে সর্বজনে
বকুনি দেয় সারাক্ষণ ।
অভাগিনী কপাল পোড়া
সইবো কত জ্বালাতন ।।
ও কালাচান ।।

কি নেশা ধরাইলো বন্ধে

♥ নুরুল আমিন ♥

কি নেশা ধরাইলো বন্ধে
চোখে কিছু দেখিনা ।
পথের মাঝে পথ হারালাম
পথ খুঁজে পাইনা ।।
কত সাজে সাজি
করি কত বাহানা ।
কত রুপে চেষ্টা করি
বন্ধের নেশা কাটেনা ।।
বন্ধে থাকে অচিন পুরে
আমার মনের আঙ্গিনা জুড়ে ।
মন কেন হইলো কানা
বুঝতে পারলামনা ।।

বন্ধেরে কই মনের কথা

♠ নুরুল আমিন ♠

বন্ধেরে কই মনের কথা গো
ও সই ।।
আমার বন্ধে বিনে কেউ বুঝেনা
মনের যাতনা । সই গো ।।
বাসরের ফুল হইলো বাসি
তবু আমি রইলাম বসি ।
বন্ধেরে যে ভালবাসি গো ।।
ও সই ।।
আমার মনোবীণা কাইন্দা মরে
বন্ধে রইলো কেন দুরে ।
বন্ধের লাগি ঝরে আঁখি
সাক্ষী বনের পঙ্খি গো ।।
ও সই ।।

জীবন ভরে থাকুক

♦ নুরুল আমিন ♦

জীবন ভরে থাকুক হাসিখুশি
স্নেহ মমতার মধুর বন্ধন।
পৃথিবী ভরে থাকুক
সুখ শান্তির স্পন্দন।

হঠাৎ একদিন চলে যাব

♦ নুরুল আমিন ♦

হঠাৎ একদিন চলে যাব
না ফেরার দেশে।
ম্মৃতি হয়ে রইবো তোমার
হৃদয়ের আকাশে।
আমায় মনে পড়বে যখন
ভাসবে দুই নয়ন।
বারে বারে মায়ার বাঁধন
করবে আলিঙ্গন।
ফিরে আর আসবনা
করে দিও ক্ষমা।
শুধু এই মিনতি করি বন্ধু
তুমি আমায় ভুলে যাইওনা।
তোমাতে আমাতে বন্ধু
জগতের যত জঞ্জাল!
শিশুদের কচি প্রাণ কচি হাসি
অবুঝ হৃদয় একেবারে নির্মল।
এসো আমরা সবাই
শিশুদের জন্য পৃথিবী সাজাই।

বয়সে কিবা আসে যায়

♥ নুরুল আমিন ♥

বয়সে কিবা আসে যায়
মনে মনে যদি এক মন হয়।
মনের রঙ্গে প্রিয় বন্ধু
রাঙ্গাবো তোমায়।
বয়সে কিবা আসে যায়
থাকিলে জোয়ার মন যমুনায়।
রং মেখে ঢং সাজা নয়
মনের রঙ্গেই রঙ্গিন হতে চাই।
অনন্তকাল থাকতে চাই
বন্ধুর হৃদয়ের আঙ্গিনায়।

আমারে আর জ্বালাইসনা

♣ নুরুল আমিন ♣

আমারে আর জ্বালাইসনারে
ওরে চিকন কালা।
আমারে জ্বালাইলে তুইও জ্বলবি
কানবি সারা বেলা।
পাড়াপড়শি মন্দ কয়
আমারো কলংক হয়।
জাতকুলমান যায় যায়
বেঁচে থাকা হল দায়।
তুই করিলে আনাগোনা
জ্বলাত আর নিভেনা।
পিরিতের নামে তুই
করিসনা বাহানা।

তুমি যদি আমার বন্ধু লাগো

♥ নুরুল আমিন ♥

তুমি যদি আমার বন্ধু লাগো
আমার আশায় পথ চেয়ে থাকো।
আমি আসব আমি আসব
দখিনা বাতাসে ভেসে আসব।
শুধু তোমার ভালবাসার টানে
আসব তোমার পানে।
আমারই কারনে
যদি গো নয়ন ঝরে তোমার।
বৃথা যাবে না তব
প্রতীক্ষার প্রহর।
তোমারই আছি তোমারই থাকব
তোমার কাছেই আসব।।

নানান রঙ্গের দিনগুলো মোর

♦ নুরুল আমিন ♦

নানান রঙ্গের দিনগুলো মোর
আহা! কি চমৎকার!!
কত রঙ্গে সেজে আছে
সাজিয়ে স্মৃতির প্রাচীর।
দুর দিগন্ত বিশাল মাঠের পানে
উতালা প্রাণ ;যায় ছুটে যায়!
উদ্দাম অস্থির সমীরণ যেন
সারা বেলা কথা কয়!!
দুষ্টুমিতে কাটাইতাম বেলা
পাঠে করিতামনা হেলা।
ঢিল মেরে পেরেছি কত আম।
দৌড়ে পদতলে নষ্ট করেছি
কত গিরস্তের ফসল।।
দল বেধে খেলিতাম
কুৎকুৎ কুমির কুমির
দাঁড়ি বান্ধা কানামাছি বৌছি।
সন্ধ্যা হৈলে ধরিতাম ঝিঁঝিঁ।।

হৃদয়ে রক্তক্ষরণ

♦ নুরুল আমিন ♦

হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়
মস্তকে রক্তক্ষরণ হয়।
অন্তর জুড়ে শোকের মাতম
অশ্রুজলে বুক ভেসে যায়।
কি এক ভয়ানক শূন্যতায়
কেঁদে উঠে হৃদয়!!
নাজিম নাই! নাজিম নাই!
হৃদয়ের স্পন্দন মেধাবী তরুন
দরদী বন্ধু শুয়ে আছে চিরনিদ্রায়।
এ শোক সহিবার শকতি যেন বিধি
তিনদিনের নবজাতক নুর আর
ছয় বছরের মুন – এতিম এ দুটি শিশুর হয়।
শোক যেন সহিতে পারে
ভাই বোন বন্ধু আত্মীয় স্বজন
স্ত্রী বাপ ও মা।
হে মাবুদ। আমরা শোকাহত।
মরহুমের মাগফেরাত চাই।
ঘাতকের বিচার চাই।।

প্রাণ বন্ধুয়ার প্রেমে পইড়া

♥ নুরুল আমিন ♥

প্রাণ বন্ধুয়ার প্রেমে পইড়ারে
জাতকুলমান সব হারাইলামরে।
কলংকিনি হইলাম আমি
প্রাণ বন্ধুয়ার কারনে।।
বিনা দোষে হইলাম দোষি
সইলাম কত অপমান।
প্রাণ বন্ধুয়ার লাগি সদা
কান্দে মোর পরান।।
আমারে করিয়া দোষি
তুমি হইলা পরবাসি গো।
মনের ব্যথা মনে রইলো
বন্ধু তুমি আইলানা গো।।

পিরিতের আগুনে পুড়ে

♥ নুরুল আমিন ♥

পিরিতের আগুনে পুড়ে
কলিজা হয় ভাজা ভাজা ।
সব কিছু হারিয়ে
জীবনটা হয় তেজপাতা ।।
হারানোর বেদনা কভু
নাহি যায় ভুলা ।
জীবন তেমনি উড়ে
যেমন উড়ে তুলা ।।

পিরিতে পোড়া মন

♦ নুরুল আমিন ♦

পিরিতে পোড়া মন
আর কিছুতে পোড়ে না ।
পিরিতের আঠা লাগলে
আর ছাড়ে না ।।
পিরিতি না জেনে
পিরিতি কইরো না ।
সারা জীবন কানবা
পাইবা শুধু যন্ত্রণা ।।
পিরিতি করার আগে
শিখে লও সাধনা ।
মনে মনে যাচাই কর মন
ওরে পিরিতে ভোলা মনা ।।

হৃদয়ের উত্তাপে

♥ নুরুল আমিন ♥

হৃদয়ের উত্তাপে করেছি নির্মাণ
ভালবাসার রঙ্গিলা দালান ।
বিশ্ব ভালবাসা দিবসে
তোমাকে জানাই স্বাগতম ।।
তুমি আমার বন্ধু
তুমি আমার প্রিয়জন ।
তোমার আমার হৃদয়ের বন্ধন
থাকবে জনম জনম ।।

তোমার বসন্তদিনে

♣ নুরুল আমিন ♣

তোমার বসন্তদিনে
আমার বসন্ত গান ।
অমৃত সুরের ভেলায়
ধ্বনিত হোক জনম জনম ।।
খুলে যাক বন্ধ দুয়ার
জাগুক নব শিহরন ।
গভির ভালবাসায় হোক
হৃদয়ের বন্ধন ।।

কি নেশা ধরাইলো বন্ধে

♥ নুরুল আমিন ♥

কি নেশা ধরাইলো বন্ধে
চোখে কিছু দেখিনা ।
পথের মাঝে পথ হারালাম
পথ খুঁজে পাইনা ।।
কত সাজে সাজি
করি কত বাহানা ।
কত রুপে চেষ্টা করি
বন্ধের নেশা কাটেনা ।।
বন্ধে থাকে অচিন পুরে
আমার মনের আঙ্গিনা জুড়ে ।
মন কেন হইলো কানা
বুঝতে পারলামনা ।।

বন্ধেরে কই মনের কথা

♠ নুরুল আমিন ♠

বন্ধেরে কই মনের কথা গো
ও সই ।।
আমার বন্ধে বিনে কেউ বুঝেনা
মনের যাতনা । সই গো ।।
বাসরের ফুল হইলো বাসি
তবু আমি রইলাম বসি ।
বন্ধেরে যে ভালবাসি গো ।
আমার মনোবীণা কাইন্দা মরে
বন্ধে রইলো কেন দুরে ।
বন্ধের লাগি ঝরে আঁখি
সাক্ষী বনের পঙ্খি গো ।

বন্ধেরে লইয়া যামু

♣ নুরুল আমিন ♣

বন্ধেরে লইয়া যামু
চাঁনদেরো দেশে ।।
পিরিতের ঘর বানামু
মনেরো আকাশে ।।
চুপিচুপি কথা কমু
মেঘের ভেলায় বসে ।
বন্ধের প্রাণ জুড়াইয়া দিমু
দখিনা বাতাসে ।।
জলাঙ্গির ঢেউ দেইখো বন্ধে
মুগ্ধ দুই নয়নে ।
আমার লাইগা রাইখো জায়গা
মনের বিজন কোণে ।।

প্রাণ বন্ধুয়ার প্রেমে পইড়া

♥ নুরুল আমিন ♥

প্রাণ বন্ধুয়ার প্রেমে পইড়া
জাতকুলমান সব হারাইলাম।
কলঙ্কিনী হইলাম আমি
প্রাণ বন্ধুয়ার কারণ।।
বিনা দোষে হইলাম দোষি
সইলাম কত অপমান।
প্রাণ বন্ধুয়ার লাগি সদা
কান্দে মোর পরান।।
আমারে করিয়া দোষি
তুমি হইলা পরবাসি।।
তবু আমি অভাগিনী
তোমায় ভালবাসি।।

নববর্ষ

– নুরুল আমিন।।

নতুন বছর নতুন দিন
রাঙিয়ে তুলুক মন।
নতুন স্বপ্ন জাগুক বুকে
জাগুক পুলক শিহরণ।
সুন্দর হোক আগামীর দিন
সমৃদ্ধ হোক জীবন।
দূর হোক ক্লান্তি বিমর্ষ
শুভ নববর্ষ।।

আমার গৌরব

– নুরুল আমিন।।

আমার গৌরব
আমি এই বাংলার কৃষক।
আমার গৌরব
আমি দেখি এই বাংলার মুখ।
ক্লান্ত মনের বিজন কোণে
ভেসে ওঠে অনন্ত সুখ।
ভুলে যাই যত দুখ।
আমার গৌরব
আমি এই বাংলার অপরূপ দেখে
মুগ্ধ মনে কাটাই সারা বেলা।
কাজেকর্মে কভু নাহি হেলা।
আমার গৌরব
আমি এই বাংলার রাখাল।

আমার স্বপ্নের পৃথিবীতে তুমি

♦ নুরুল আমিন ♦

আমার স্বপ্নের পৃথিবীতে তুমি
স্বপ্নের ফেরিওয়ালা হয়ে
ভালবাসার সিঁড়ি বেয়ে
অন্তত: একবার আসতে যদি!
তবে মনের মুকুরে হীরা কোহিনুরের
প্রগাঢ় প্রচ্ছদে গহীন মমতায়
অপূর্ব সাজে সাজাতাম তোমায়!!
সারা অঙ্গে তোমার
জড়িয়ে দিতাম গুল্মলতা
হৃদয়ের প্রকান্ড ভালবাসায়।।
আমার বর্নময় স্বপ্নিল জীবনে
আর কোন বেদনার চিহ্ন থাকতো নাকো!!

আমি থাকি বন্ধের আশায়

♦ নুরুল আমিন ♦

আমি থাকি বন্ধেরও আশায়
রে মন আমার।
বন্ধে আমার বারে বারে
কারবা পানে চায়
রে মন আমার।।
আশায় আশায় দিনযে গেল
ফুলের মধু শুকাইলো।
ধুকে ধুকে কাইন্দা মরে
আকুল ভোমরায়
রে মন আমার।।

আমি যার পিরিতের কাঙ্গাল

♦ নুরুল আমিন ♦

আমি যার পিরিতের কাঙ্গাল
সেতো আমার হৈলনা।
পিরিতি কইরা আমি
পাইলাম শুধু যন্ত্রণা।।
রঙ্গেঢঙ্গে কাছে আইসা
কইরা গেলো ছলনা।
আমার মন কাইরা নিলো
তাহার মন দিলোনা।।
সে আমারে ভুলে গেছে
আমি তারে ভুলিনা।
পিরিতের এ কেমন রীতি
পাগল মনে বুঝেনা।।

তুমি

– নুরুল আমিন।।

জীবনের প্রতিটি বসন্তে
তোমাকে জানাই অভিনন্দন ।
হৃদয়ের দুয়ারে সদা ভেসে ওঠে
তোমার ভালবাসার পুলক শিহরণ।
স্মৃতির দুয়ারে শুধু
তুমি আর তুমি ।
তোমাকে ছাড়া অন্য কিছু
ভাবতে পারিনা আমি ।।

স্মৃতির অমলিন বাসর

♦ নুরুল আমিন ♦

স্মৃতির অমলিন বাসরে
ঘুরে ফিরে বার বার
পাই শুধু তোমারে।
তুমি আছো
তুমি ছিলে
তুমি থাকবে।
আমার নি:শ্বাসে বিশ্বাসে
জীবন নদীর কিনারে
পাই শুধু তোমারে।।
জীবনের পরতে পরতে
স্মৃতির অমলিন বাসর।
তোমাকে নিয়ে সাজাই
হর্ষ বেদনা মিশ্রিত আসর।।

সেই যে কবে

♦ নুরুল আমিন ♦

সেই যে কবে হয়ে ছিল
শেষ দেখাটা !
কি যে হয়ে ছিল
শেষ কথাটা !!
আজি এ লগনে আহা !
মনে কি পড়ে তাহা !!
ফেলে আসা স্মৃতির বাসরে
একবার রাখো চোখ।
দেখবে হেথায় ভেসে উঠবে
মায়াবী এক মুখ।

কোন এক বিকেলে

– নুরুল আমিন।।

কোন এক বিকেলে দেখেছি তোমায়
সে দেখা আজো হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
তোমার মায়াবী মুখ পিরিতের বাসনায়
বার বার গহীন মমতায় ডাকে শুধু আমায়।।
খড়বিচালী শুকনো পাতা যেন
কতকাল কতযুগ যুগান্তর ধরি
মর্মর সুরে তোমার আগমনী পথে
এখানে ওখানে পড়ে আছে ।।
আহা! কেউ নেয় নাকো তুলে !!
আমি অভাগা পারি নাকো !
তোমায় যেতে ভুলে !!!
হতভাগি! একবার এসে
আমায় নেও নাগো তুলে !!

দুই আনার পিরিতে

– নুরুল আমিন।।

দুই আনার পিরিতে
আট আনা জীবন শেষ ।
বাকি আট আনার জীবনে
শুধু হায় হুতাশ ।।
হাসি হাসি পিরিতি হয়
আবেগে মন মজে যায় ।
কান্দি কান্দি অবশেষে
পিরিতি শেষ হয় ।।

আমারে লও তুলে

– নুরুল আমিন।।

আমি কার লাগিয়া রইলাম বইসা
ভব দরিয়ার পাড়ে ।
আমার পরের নাইয়া আগে যায় বাইয়া
পারের কড়ি কে দিল তারে ।।
আমি অধম কোন ভুলে
তোমারে গেছি ভুলে ।
ভুলের পাহাড় ভেঙ্গে দয়াল
আমারে লও তুলে ।।
আমার চোখে মেখে দেও দয়াল
মদিনার ধুলাবালি ।
কন্ঠে তুলে দেও মোর
প্রিয় নবীজির বুলি ।।

পাকা ধানে খিসখিস শব্দে

♦ নুরুল আমিন ♦

পাকা ধানের খিসখিস শব্দে
হৃদয়ে মাতম জাগে !
যত দেখি যেন
ততই ভাল লাগে !!
সোনালী সোনালী ধান
বাংলার ক্ষেতে ক্ষেতে
দোল খয় বাতাসে ।
সারা বেলা দেথে দেখে
সোনালী সোনালী হাসি
কৃষাণ কৃষাণী হাসে ।।

দুরন্ত ভালবাসা

– নুরুল আমিন।।
কি যে এক দুরন্ত ভালবাসার
মধু মধু হিল্লোল
হৃদয় ছুঁয়ে যায় !
বুঝা যায় ; কিন্তু বুঝানো দায় ।।
কার পানে ছুটে হৃদয়
কার তরে এমন আকুল হয় !
হৃদয় মাঝে বসি আপন মহিমায়
সুরের বেহালা কেগো বাজায় !!
সাধ্য কি আছে আমার
চিনিব তোমায ; দেখিব তোমায় ।
শুধু এই মিনতি করি দয়াল
তোমার থেকে যেন বঞ্চিত না হই ।।

গৌধুলী লগনে মেঘনার তীরে

♦ নুরুল আমিন ♦

গৌধুলী লগনে মেঘনার তীরে
কোন এক ধান ক্ষেতের পাশে
একান্ত নিরিবিলি নিরজনে
রূপসী বাংলার অপরূপ হেরি
বিমুগ্ধ নয়নে!
কোন এক কালে কোন এক কিশোরির
পায়ের ঘুঙ্গুর বেজেছিল এ পথে
জলাঙ্গির ঢেউয়ে গাঙচিল
ডানা ঝাঁপটে যেন! আহা!
আজো খোঁজে তাহা।

বন্ধেরে লইয়া যামু

নুরুল আমিন।।

বন্দেরে লইয়া যামু

চাঁন্দেরো দেশে।

পিরিতের ঘর বানামু

মনেরো আকাশে।।

চুপিচুপি কথা কমু

মেঘের ভেলায় বসে।

বন্ধের প্রাণ জুড়াইয়া দিমু

দখিনা বাতাসে।।

জলাঙ্গির ঢেউ দেইখো বন্ধে

মুগ্ধ দুই নয়নে।।

আমার লাইগা রাইখো জায়গা

মনের বিজন কোণে।।

Create your website at WordPress.com
Get started
%d bloggers like this:
search previous next tag category expand menu location phone mail time cart zoom edit close